যখন ঘরে বসে যখন চাকরি করা সম্ভব তখন বাইরে যাবেন কেন?
আপনি জানেন কি? করোনা মহামারীর কারনে সারা বিশ্বে এখন কাজের কিংবা চাকরির অভাব। শুধুমাত্র আইটি সেক্টর এর বিপরীত। সব সেক্টরে কাজ কমে গেলেও আইটি সেক্টরে বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ, আপনার সঠিক আইটি স্কিল থাকলে ঘরে বসেই বিশ্বের নামিদামি কোম্পানীগুলোর সাথে কাজ করতে পারবেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭ লাখ ফ্রিল্যান্সার অনলাইনে ঘরে বসে কাজ করছে, যা বিশ্বে দ্বিতীয়। যাদের মাধ্যমে প্রতিবছর ১০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হচ্ছে। কিন্তু এখনও প্রচুর পরিমাণ আইটি সেক্টরে কাজের সুযোগ পরে আছে। আমরা এই সুযোগগুলো নিতে পারছিনা শুধুমাত্র সঠিক গাইড লাইন ও ভালো ট্রেনিং এর অভাবে।
আপনি যে বিষয়গুলো ঘরে বসেই শিখতে পারেন?
প্রথমত আইটি সেক্টরে কোন প্রকার ডিগ্রীর মাধ্যমে কাজ পাওয়া যায় না। এটা সম্পুর্ণ দক্ষতা নির্ভর পেশা। সবচেয়ে বড় যে সুযোগ তা হলো এই সেক্টরে কয়েকশো ধরণের কাজ আছে যা রপ্ত করে খুব সহজেই আত্মনির্ভর ও উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব।
আইটি সেক্টরের প্রতিটি কাজের বিশ্ববাজারে চাহিদা আছে। কিন্তু চাইলেই একবারে সকল বিষয়ে এক্সপাট হওয়া সম্ভব না। তবে কিছু কাজ আছে যেমন চাহিদা সম্পূর্ণ তেমন শেখার মাধ্যমগুলোও সহজলভ্য। যেমন-
ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট
আপনি জানেন কি? বিশ্বে ৫৩৭ মিলিয়ন একটিভ ওয়েব সাইট আছে! কি অবাক হচ্ছেন? আর এই ওয়েব সাইটগুলো যাদের মাধ্যমে তৈরী হচ্ছে সেই ওয়েব ডেভেলপারের সংখ্যা প্রায় ২৩ মিলিয়ন। ডিজিটাল বিশ্বে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এখন তাদের নিজস্ব ওয়েব সাইট তৈরী করছে।
বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৫০ মিলিয়ন নতুন কোম্পানীর জন্ম হচ্ছে। যার মাঝে প্রায় ২ মিলিয়ন আইটি কোম্পানীর জন্ম হচ্ছে। তাই এসব কোম্পানীতে যেমন নতুন ওয়েব সাইটের প্রয়োজন হচ্ছে তেমনি তাদের আইটি সেক্টরের জন্য প্রচুর ওয়েব টেকনোলোজিতে দক্ষ মানুষের প্রয়োজন হচ্ছে।
ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শিখে আপনিও এই সুযোগগুলো নিতে পারেন। যা আপনাকে এনে দেবে অনেক কাজের সুযোগ। এই কাজগুলো যেমন ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে ঘরে বসে করতে পারবেন। তেমনি বিভিন্ন নামীদামী আইটি কোম্পানীতেও চাকরি পেতে পারেন।
মনে রাখবেন শুধু আপনার ইচ্ছে ও প্রচেষ্টাই পারে আপনাকে একজন দক্ষ ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে গড়ে তুলতে। এবার ভাবুন আপনি আপনাকে কোথায় দেখতে চান! আপানর উন্নত ক্যারিয়ার আপনার হাতেই রয়েছে।
অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট
বর্তমান সময়ে কার হাতে স্মার্টফোন নেই? স্মার্ট ফোনের বিভিন্ন দারুণ দারুণ অ্যাপ এর মাধ্যমে আমরা কত কিছুই না করছি। এর বাইরে দারুণ সব গেইম এখন হাতের মুঠোয়। এসন অ্যাপ্লিকেশন কিংবা গেইমস কেউ না কেউ তৈরী করছে। আপনাকে জানিয়ে রাখি বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৩ বিলিয়ন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী রয়েছে। মোবাইল
ফোনের জন্য অ্যাপ্লিকেশনের চাহিদাটাও ব্যাপক। আর ওয়েবসার্ভার, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন, রিয়েলটাইম নেটওয়ার্কিং অ্যাপ্লিকেশন, মোবাইল গেমস সহ আরো অনেক উন্নত মানের কাজগুলো যে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে করতে পারবেন তা হলো- জাভাস্ক্রিপ্ট।
প্রোগ্রামিং কথাটি শুনে আপনার কাছে হয়তো জিটিল কিছু মনে হচ্ছে। কিন্তু আসলে এটি জটিল কিছু নয়। আপনি ঘরে বসেই জাভাস্ক্রিপ্ট শিখে নিতে পারেন। একটি উন্নত ক্যারিয়ারের জন্য নিজেকে চাইলে একজন দক্ষ জাভাস্ক্রিপ্ট এক্সপার্ট হিসেবে গড়ে নিতে পারেন।
আপনি হতে পারেন একজন আইটি বিজনেস ম্যান
উপরে আমরা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট , অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সহ অনেগুলো বিষয়ে জানলাম। এবার জানব আপনি এসব শিখে নিজে কীভাবে আইটি বিজনেস শুরু করতে পারেন। ওয়েব সাইট ও বিভিন্ন সফটওয়্যার বেচা কেনার সবচেয়ে বড় মার্কেট প্লেস হলো থিমফরেস্ট।
যেখানে প্রায় ৩০ হাজার বিভিন্ন টাইপের ওয়েব প্রডাক্ট বেচাকেনা হচ্ছে। আপনি যদি একজন ভালো ওয়েব ডেভেলপার হতে পারেন তবে আপনি আপানর বিভিন্ন প্রজেট এখনে বিক্রি করতে পারেন। শুধু ওয়েব সাইট বানাতে পারলে হবে না। এই মার্কেট প্লেসে কাজ করা জানতে হবে। নাহয় আপনার প্রডাক্টগুলো এপ্রোভ হবে না।
এছাড়া বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে স্বাধীনভাবে বা বিভিন্ন ম্যাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ভার্চুয়ালি কাজ করতে পারেন যার বেতন নেহাত কম নয়। তবে আপনাকে স্কিলফুল হইতে পারে।
এখন সিদ্ধান্ত আপনার ঘরে বসে স্কিল ডেভেলপ করে দেশবিদেশের বড় বড় কোম্পানিতে চাকুরি করবেন নাকি রোদ্দুর গরমে বসের চাপে জীবন অতিবাহিত করবেন?
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: https://mnfoundation.co
